আইন-আদালত

প্রধান বিচারপতির ফের দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত : অ্যাটর্নি জেনারেল

দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আজ রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে একই মন্তব্য করেছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিলাম, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত। আজকেও বলছি। কারণ, অন্য বিচারপতিরা যদি উনার সঙ্গে না বসতে চান, তাহলে তিনি কীভাবে বিচার করবেন?’

মাহবুবে আলম আরো বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির আসা না-আসার কোনো সম্পর্ক নেই।’

গত ১৩ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়া যান প্রধান বিচারপতি।

এর আগে সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব ও অতিরিক্ত জেলা জজ মো. আনিসুর রহমান জানান, প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। সেখানে মেয়ে সূচনা সিনহার বাড়িতে উঠবেন তাঁরা।

সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আর একপর্যায়ে কাগজে লেখা একটি বিবৃতি সাংবাদিকদের দিয়ে দেন তিনি।

বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি, কিন্তু ইদানীং একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটা মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেইসঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ, গতকাল প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনে পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধুমাত্র রুটিনমাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

রিলেটেড সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close