অন্যান্য

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্গো বিমানে

রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি নথি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, “কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা অনুভব করেছি, এই সময়ে কার্গো পরিবহন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা ও বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্ব অনুভব করেছিলাম।”

ওই নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এখানে আসল ফ্যাক্ট হল- টেরোরিস্টরা, যারা পুরো পৃথিবীকে হুমকিতে রেখেছে। অনেক পরিসংখ্যান রয়েছে যেখানে এয়ারক্রাফটে বোমা রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।”

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে বাংলাদেশের ‘কঠোর প্রচেষ্টার ফসল’ অভিহিত করেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেখানে নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্রিটিশ কোম্পানি রেডলাইনকে ধন্যবাদ জানান বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন উড়োজাহাজে কার্গো বহনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকল না। আশা করছি, অস্ট্রেলিয়াও দ্রুত সেটা প্রত্যাহার করে নেবে। ইউরোপের সব দেশে এখন সহজে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশ করতে পারবে। এতে গার্মেন্টসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।”

রোববার থেকেই যাত্রীরা যে কোনো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে মালামাল নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।“বাংলাদেশ বিমানের কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারাও কার্গো পরিবহন করতে পারবে,” বলেন তিনি।নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্য। এর কারণে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে তৃতীয় কোনো একটি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের কার্গো পরীক্ষা করে নেওয়া হয়।এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই। কর্মকর্তারা জানান, এতে অর্থ ও সময় দুই দিক থেকেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসতে ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্রিটিশ কোম্পানি রেডলাইনকে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।

রিলেটেড সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close