অন্যান্য

ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই উড়োজাহাজে পুলিশ কর্তা

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম রোববার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশের পোশাকের এ ধরনের অপব্যবহার খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

শনিবার মধ্যরাতে এই ঘটনার পর এসআই আশিকুর রহমানকে আটক করা হয় বলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান।

তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন  বলেন, “ইমিগ্রেশন পুলিশ বা সিভিল এভিয়েশন অথরিটি তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নিতে বলবে আমরা আশিকের বিরুদ্ধে সেই ব্যবস্থা নেব।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা  ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার এক স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে থাই এয়ারের টিজি-৩৪০ ফ্লাইটে উঠে পড়েছিলেন। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।পরে তাকে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, রেঞ্জ পুলিশের নীল রঙের ইউনিফরম পরে আশিকুর রহমান বিমানবন্দরে ঢোকেন। কর্মকর্তারা আটকালে তদন্তের প্রয়োজনে ভেতরে যাওয়া প্রয়োজন বলে তিনি গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকে যান।

“পরে তাকে আবিষ্কার করা হয় থাই এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজের ভেতরে। বিমানটি তখন উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভ্রমণের ন্যূনতম কাগজপত্র ছাড়া বিমানে কারও উঠে বসার পরে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে বিমান চালাতে অস্বীকৃতি জানান ক্যাপ্টেন। পরে সিভিল এভিয়েশন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা দেরিতে রাত ৩টার দিকে উড়োজাহাজটি ঢাকা ছাড়ে।”

এসআই আশিকুর রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) বদলির আদেশ হয়েছে তার।

এভাবে তার উড়োজাহাজে উঠে পড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ জানান থাই এয়ারের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা।তিনি  “কীভাবে একজন ভিসা- পাসপোর্ট ছাড়াই এয়ারক্র্যাফটে উঠে পড়ে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। এখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার।”

নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে দুই বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা অনেক উদ্যোগের পর রোববার প্রত্যাহার হয়েছে।

বিমানবন্দরের পরিচালক ইকবাল করিমও সে কথাই বলেছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “অনেক চেষ্টার পরে আমরা যখন একটা ফল (যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার) পেতে চলেছি তার আগের দিন পুলিশ কর্মকর্তার এ ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা পুলিশের সর্বোচ্চ মহলের কাছে তার সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করব।

“আমরা একদিকে চেষ্টা করে যাচ্ছি, আর এর মধ্যে ইউনিফরমধারী কেউ যদি এ রকম করেন, তাহলে তো চলবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো যাবে না।”

রিলেটেড সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close