অন্যান্য

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

বুধবার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে ফেইসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিশ্রামের জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন। তার এই পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বিবিসি জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সী টিন চয়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা গত কয়েক মাস ধরেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না।

টিন চ মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে এলেও কার্যত সরকার চালিয়ে আসছিলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করায় মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ ছিল না সু চির। ফলে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে এনএলডির বড় জয়ে মিয়ানমারে দীর্ঘ সামরিক নেতৃত্বের অবসান ঘটলে নোবেলজয়ী সু চি রাষ্ট্রপ্রধান পদের জন্য বেছে নেন তার ছেলেবেলার বন্ধু, দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উপদেষ্টা টিন চকে।

সে সময় সংবিধান সংশোধন করে সু চির জন্য স্টেট কাউন্সেলরের পদ সৃষ্টি করা হয়। রাষ্ট্রের অধিকাংশ নির্বাহী ক্ষমতাও দেওয়া হয় তার হাতে।

অবশ্য পার্লামেন্টের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ সংবিধান অনুযায়ী এখনও রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। ফলে সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সু চি বা তার সরকারের নেই।

এমন এক সময়ে তাকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে, যখন রাখাইনে সেনা অভিযানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তোপের মুখে রয়েছে সু চির সরকার।

গত অগাস্টে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন সু চি।

বিবিসি লিখেছে, মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী নতুন একজন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনারেল মিন্ট সোয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

রিলেটেড সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close